দেশের পুঁজিবাজারে স্থানীয় ও বিদেশী বড় কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে চাইছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই ধারাবাহিকতায় জনস্বার্থ সংস্থাগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার আইনি কাঠামো পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৯৭১তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
কমিশন সভা শেষে বিএসইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশী-বিদেশী বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে এ বছরের ১১ মে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের নির্দেশনার আলোকে জনস্বার্থ সংস্থাগুলোকে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জনস্বার্থ সংস্থার বিষয়টি মূলত ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইনে (এফআরএ) উল্লেখ রয়েছে। বিএসইসি চাইছে এফআরএ আইনে সংজ্ঞায়িত জনস্বার্থ সংস্থাগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে। আইনগতভাবে বাধ্য করা না হলে সহজে কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসতে চাইবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই আইনি কাঠামোর মাধ্যমে কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা হয়। এজন্য আইনগত নানা দিক পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। পর্যালোচনা শেষে জনস্বার্থ সংস্থাগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনি কাঠামো তৈরি করা যায় সেটি নির্ধারণ করা হবে।
এফআরএ আইনে জনস্বার্থ সংস্থাগুলোর বিষয়ে বলা হয়েছে, এসব সংস্থার ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কার্যক্রমকে একটি সুনিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় আনা, হিসাব ও নিরীক্ষা পেশার স্ট্যান্ডার্ডস প্রণয়ন, যথাযথভাবে প্রতিপালন, বাস্তবায়ন, তদারকি এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য এফআরসি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এফআরএতে জনস্বার্থ সংস্থা হিসেবে ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিএসইসির কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান, এমন কোনো সংস্থা যার বার্ষিক রাজস্ব পূর্ববর্তী অর্থবছরে এফআরসির নির্ধারিত সীমার বেশি রয়েছে, এমন কোনো সংস্থা যা পূর্ববর্তী অর্থবছর শেষে এফআরসি নির্ধারিত ন্যূনতমসংখ্যক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে বা এর মোট পরিসম্পদ এফআরসি নির্ধারিত সীমার বেশি রয়েছে কিংবা এর শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটি ব্যতীত মোট দায়ের পরিমাণ এফআরসি নির্ধারিত সীমার বেশি রয়েছে—এ তিন শর্তের যেকোনো দুটি পূরণ করেছে এমন প্রতিষ্ঠান এবং যেকোনো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো জনস্বার্থ সংস্থা হিসেবে গণ্য হবে বলে উল্লেখ রয়েছে।
এফআরএর ভিত্তিতে এরই মধ্যে এফআরসি বার্ষিক রাজস্ব, সম্পদ ও দায়ের ভিত্তিতে কারা জনস্বার্থ সংস্থার অন্তর্ভুক্ত হবে সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এক্ষেত্রে ৫০ কোটি টাকার বার্ষিক রাজস্ব, ৩০ কোটি টাকার সম্পদ ও ১০ কোটি টাকার দায়—এ তিন শর্তের মধ্যে যেকোনো দুটি পূরণ হলেই সেটি জনস্বার্থ সংস্থা হিসেবে বিবেচিত হবে।